কথোপকথন: বিস্মৃতির আকুতি

হ্যালো, কী খবর?

বেখবর।
তোমাকে দেখি না বহুদিন …
ভুলে যাচ্ছি মনে হয়!

হা হা, জানি,
আমারও একই অনুভূতি।

আচ্ছা, মনে রাখা কি জরুরি?

নাহ্, হয়তো ঠিক ততোটা নয়।

এটা উচ্চারণ করাও জরুরি নয় …

তাও ঠিক।
আমি আগে স্ক্রিপ্ট পাইনি তো;

বলো –
তাহলে চলো দেখা করি …
শূন্যস্থান পূরণ ছোটবেলায় আমি ভালো পারতাম না,
বড় হবার পর কিছুটা শিখেছি –
তোমার এখনও বাকি আছে দেখছি!!!
তাইতো দেখছি।

আমি সাতক্ষীরায় এসেছি।

হুম, ফেইসবুকে দেখেছি।

ভেবেছিলাম ভালো লাগবে।
কিন্তু কী আশ্চর্য, একেবারেই লাগছে না!

কেন?

বাড়ি ফিরতে খুব মন চাইছে।

তাহলে ফিরছ না কেন?
আমার বলার অপেক্ষায় থাকতে কে বলেছে?

আশা করছি আজকে সন্ধ্যায় রওনা দেব।
কবি সাহেব,
সকালে চা খেয়েছ সুন্দর করে?

তুমিও বললে!!!
আচ্ছা যাও খাচ্ছি।

আমার পক্ষ থেকে এক কাপ বেশি করে খেয়ে নিও।
আমি চা মিস করছি।

আমার এখানে বিচ্ছিরি এক কাপ অফিসের চা।
আমি লেবু চা মিস করছি;
সেই সাথে তোমাকেও –
কেন জানি এই সকালে …

বাসায় গিয়ে ওইটা খাবো সবচেয়ে আগে।
তোমার সাথে দেখা হবে আগামী বছর!
ফিরে গিয়েই শনিবার আবার যাত্রা,
ফিরব একবারে একত্রিশে
হয়তো,
যদি বেঁচে থাকি।

কোথায় যাও আবার?
কোথায় যাও এত?

মাঠকর্ম।

এই শীতে, এই করোনায়?

এজন্যই বললাম,
বাড়ি ফিরতে খুব মন চাইছে;
ভালো লাগছে না একটুও –
একেবারে বিধ্বস্ত অবস্থা।

কে এত নিষ্ঠুর হলো তোমার প্রতি?

হা হা,
জ্বরঠোসা উঠেছে, হাসতে পারছি না।
প্রতিদিন এত এত মানুষের সাথে কথা,
গলাও শেষ।

চুমু খেতে পারবো না বলে
লিপজেল কিনে দিতে চাই –
তবে তার মেয়াদ আছে কেবল এবছর।

চুমু?
বাবারে!

নাম শোনোনি আগে!!!
বাবা বলেনি?

হাহা, ধন্যবাদ –
অফার জমিয়ে রাখলাম,
পরে রিডিম করবো লাগলে।

ইউ আর মোস ওয়েলকাম।

যাই কাজের প্রস্তুতি নেই।
ইশ, এখানে খাবার
কী যে মশলাদার,
ভারী যন্ত্রণা …

আচ্ছা ম্যাডাম,
আপনি কোন অপশন রিডিম করতে চান?
এক না দুই?

লিপজেল অপশনটাই চলবে আপাতত।

আপনি অত্যন্ত ভালো একটি অপশন বেছে নিয়েছেন,
গুড চয়েস।
তবে,
আপনার ইশারা কিন্তু বিভ্রান্তিকর –
মশলাদার বটে!
ওটায় বিভ্রান্ত হবার আশংকা আছে
তাই সাবধান!!!
আচ্ছা, মশলা ফুরোলে ফোন দিও, –
থুক্কু মেসেজ দিও।

যাই কাজে,
অলরেডি দশটা বেজে যাচ্ছে …

উহুঁ, বিশ মিনিট বাকি আছে!!!
দুই মিনিট থেকে যাও আমার সাথে,
এতে সাতক্ষীরার ঘেরগুলো ডুবে যাবে না।
অবুঝ রমণী …

সামান্য আয়োজন

আকাশের নীল আর নক্ষত্রেরা নির্বাসিত
বাতাসের কোমলতা ধুলিধূসরিত
নিহত নাগরিক কবি নথিপত্রে পলাতক
যান্ত্রিকতার ছদ্মবেশে লুকানো অপার দুঃখবিলাস
সে অভিমানে এই বসন্তে ফোটেনি পলাশ
তবুও সবুজের সমারোহে সামান্য বৃক্ষবিলাস …


পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন

তোমার অসীম ক্ষমতা

সম্পর্কের ভাঙ্গা ফুলদানিটাকে
অদ্ভুত র‍্যাপিং পেপারে
তুমি যে এত অনায়াসেই মুড়ে দিতে পারো –
তা আমার জানা ছিলো না!

অব্যক্ত প্রেমের ছেঁড়া চিঠিগুলো
তুমি যে এভাবে জুড়ে দিতে পারো –
তা আমার ধারণায় ছিলো না!

আমি ভাঙ্গা ফুলদানি হাতে বোকার মতো অনন্যোপায়
ঠাঁয় দাঁড়িয়ে ছিলাম বহু যুগ!
তোমার উদ্দেশ্যে লেখা
একটি দীর্ঘ চিঠির অংশবিশেষ নিয়ে
অহেতুক অস্বস্তিতে ঘুরে বেড়িয়েছি এক শতাব্দী।
আমাদের গোপন ছবিগুলো
স্মৃতির সারথি হয়ে মলিন হয়ে গিয়েছিলো
গত প্রজন্মে।

তোমায় দ্বিতীয়বার ছোবার আগে
আমার জানা ছিলো না –
আমার জন্যে তোমার প্রতীক্ষার প্রহর পেরুতে
গুণতে হয়েছে কত অস্থিরতার ধারাপাত।


ভোলা সদর

অযথা আড়াল

ফিরে আসবার সময়
তোমার চোখের দিকে তাকাইনি
পাছে লোকজন আমার চোখে
তোমার জন্য ভালোবাসা
অনায়াসে বুঝে ফেলতে পারে …

এজন্য তোমার অভিমানের কমতি ছিল না এক জীবনে।
আমার প্রতি অভিমান করে শুধু শুধুই জীবন কাটালে
আড়ালে আড়ালে – আর অযথা গোপনে।


ভোলা সদর

তিলোত্তমা

চিরচেনা শহর মাঝে মাঝেই ঢেকে যায়
আলো ছায়ার অচেনা অদ্ভুত মায়ায়
আমি এই মোহমায়া কাটানোর আশায়
চেয়ে রই অপার্থিব অন্ধকারের তারায় …


রূপায়ন প্যালেস, মিরপুর, ঢাকা